নিজস্ব প্রতিনিধি::
বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর এবং দক্ষিণ সুরমা—এই তিন উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘বড় ভাগা’ নদী এখন এক চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। দীর্ঘ দিন ধরে জমে থাকা কচুরিপানার জটে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুরো স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। জমে থাকা কচুরিপানা পচে তৈরি হওয়া তীব্র দুর্গন্ধে এবং দূষিত পানিতে এখন নদী তীরের জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
থমকে গেছে নদীর গতি, পচে যাচ্ছে পানি স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ভারী কচুরিপানা আটকে রয়েছে। প্রবাহ বন্ধ থাকায় পানি হয়ে পড়েছে স্থবির ও কুচকুচে কালো। কচুরিপানা পচে পানির অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
চরম বিপর্যয়ে মৎস্য সম্পদ-
স্থানীয় জেলে ও মৎস্যজীবীরা জানান, নদীতে পচনশীল কচুরিপানার কারণে মাছের ডিম ছাড়া ও বংশবিস্তারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ মরে ভেসে উঠছে এবং তলদেশে মাছের প্রাকৃতিক আবাস্থল পুরোপুরি ধ্বংসের পথে। এর ফলে স্থানীয় শত শত জেলে পরিবারের জীবিকা এখন চরম অনিশ্চয়তায়।
বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে তীরের মানুষ
নদী তীরের বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, কচুরিপানা পচা দূষিত বাতাসের কারণে নদীর দুই পাড়ের মানুষ সুপেয় বাতাস গ্রহণের সুযোগ হারাচ্ছেন।
কচুরিপানা পচে যে তীব্র গন্ধ বের হচ্ছে, তাতে ঘরে টেকা দায়। ছোট ছেলেমেয়ে ও প্রবীণরা ঘনঘন শ্বাসকষ্ট এবং পেটের নানা রোগে ভুগছেন — নদী তীরের এক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা
দুর্গন্ধের কারণে নদীর পাড়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নদীর পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দৈনন্দিন কাজেও দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট।
দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর ও দক্ষিণ সুরমার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অনতিবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে বড় ভাগা নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই নদীর বাস্তুসংস্থান ও তীরের জনজীবন চিরতরে ধ্বংসের মুখে পড়বে।