আব্দুল আহাদ,প্রতিনিধি::
সিলেটের নগরের রায়নগর এলাকায় একই বাসায় আব্দুস ছত্তার, তাঁর স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর এই ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে থাকা মূল কারণ বেরিয়ে এসেছে—গৃহপরিচারিকার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জেরে বলি হতে হয়েছে সিলেট ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুস ছত্তার ও তাঁর স্ত্রীকে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত প্রধান আসামি বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল স্বীকার করেছে যে, নিহত গৃহপরিচারিকার সঙ্গে তার একটি অনৈতিক বা অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে এবং বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে বা এর কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনার জেরে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ঘটনার দিন গৃহপরিচারিকার পাশাপাশি বিষয়টি আড়াল করতে এবং বাধা দেওয়ায় গৃহকর্তা আব্দুস ছত্তার ও তাঁর স্ত্রীকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ট্রিপল মার্ডারের এই ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও সিআইডির একটি টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান আসামি বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে মূল রহস্য উন্মোচন করেছে।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনাটিতে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে আসামি বাবুল মিয়াকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের রায়নগরে একই পরিবারের দুজন সহ তিনজনের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।