আব্দুল আহাদ,স্টাফ রিপোর্টার::
নদীর দুইপারে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেতুর মূল ভিত। মাঝখানে নেই কোনো ঐতিহ্যগত খুঁটি বা পিয়ার। সিলেটের বালাগঞ্জের বড়ভাঙা নদীতে নির্মিত হচ্ছে চোখধাঁধানো ও নান্দনিক নকশার একটি ঝুলন্ত সেতু। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করে সেতুটির নির্মাণকাজ এখন শেষের পথে। এটি চালুর মাধ্যমে বড়ভাঙা নদীর দু’পাড়ের হাজার হাজার মানুষের খেয়া পারাপারের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
বড়ভাঙা নদীর ওপর সুনির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় বছরের পর বছর ধরে এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হতো। বিশেষ করে বর্ষাকালে প্রমত্তা নদীর বুথে ট্রলার বা খেয়া নৌকায় পার হওয়া ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। ঝুলন্ত এই সেতুটি নির্মাণ হওয়ার ফলে নদীর দুই পারের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
প্রকৌশলীদের মতে, নদীর নাব্য এবং স্বাভাবিক পানি প্রবাহ অক্ষুণ্ণ রাখতেই মাঝখানে খুঁটি না রেখে ঝুলন্ত সেতুর বিশেষ নকশা নির্বাচন করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও নান্দনিক নির্মাণশৈলীর সমন্বয়ে তৈরি এই সেতুটি চালু হলে শুধু যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নই হবে না, বরং বালাগঞ্জের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পর্যটনেও নতুন গতি সঞ্চার করবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খেয়া পারাপারের অবসান ঘটিয়ে এই সেতু চালু হওয়া তাদের জন্য এক বিরাট স্বস্তির বিষয়। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি উন্মুক্ত হওয়ার অপেক্ষা।