ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই ছিল ৯০ মিনিটের উত্তেজনা, কোটি কোটি দর্শকের চোখ মাঠে আর শিরোপার জন্য দুই দলের লড়াই। কিন্তু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল যেন সেই পরিচিত ছবিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার সমান আলোচনায় রয়েছে মাঠের বাইরের আয়োজনও। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে যুক্ত হচ্ছে সুপার বোলের আদলে হাফটাইম শো। ফলে অনেকের প্রশ্ন এটি কি বিশ্বকাপের ফাইনাল, নাকি এক বিশাল মিউজিক ফেস্টিভাল?
ফিফা আগেই ঘোষণা দিয়েছে, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে প্রথমবারের মতো হাফটাইম শোর আয়োজন করা হবে। এই আয়োজনের সৃজনশীল পরিচালনায় রয়েছেন কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিন। ফিফা ও গ্লোবাল সিটিজেনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান শুধু বিনোদনের জন্য নয়, ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের জন্য সচেতনতা ও অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যেও আয়োজন করা হচ্ছে।
হাফটাইম শোতে পারফর্ম করবেন বিশ্বের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের কয়েকজন। মাদোনা, শাকিরা, বিটিএস ও জাস্টিন বিবার এই আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ। তাদের সঙ্গে থাকবেন বার্না বয়, নিউইয়র্ক ফিলহারমনিকের সঙ্গীত পরিচালক গুস্তাভো দুদামেল এবং পিএস২২ কোরাস। পুরো অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করছে গ্লোবাল সিটিজেন।
তবে এই নতুন উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কও কম নয়। ফুটবলপ্রেমীদের একটি অংশের মত, বিশ্বকাপের ফাইনালের মূল আকর্ষণ হওয়া উচিত ম্যাচটি, অতিরিক্ত বিনোদন নয়। তাদের আশঙ্কা, সুপার বোলের ধাঁচের আয়োজন ফুটবলের ঐতিহ্যকে বদলে দিতে পারে। আবার অন্য একটি অংশ মনে করছে, বর্তমান যুগে খেলাধুলা ও বিনোদন একসঙ্গে এগোচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর যদি সংগীত ও সংস্কৃতিকেও একই মঞ্চে নিয়ে আসে, তবে তা নতুন প্রজন্মের দর্শকদের আরও বেশি আকৃষ্ট করবে।
এবারের বিশ্বকাপজুড়েই ফিফা সংগীতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বিভিন্ন আয়োজক শহরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, অফিসিয়াল সাউন্ডট্র্যাক এবং আন্তর্জাতিক শিল্পীদের অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টটিকে আগের যেকোনো আসরের তুলনায় আরও বেশি বিনোদননির্ভর করে তুলেছে। ফাইনালের হাফটাইম শো সেই পরিকল্পনারই সবচেয়ে বড় প্রকাশ।
তবু শেষ পর্যন্ত এই রাতের কেন্দ্রবিন্দু থাকবে ফুটবলই। একদিকে লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ, অন্যদিকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের নতুন প্রজন্মের বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন। আলো ঝলমলে মঞ্চ, বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের পরিবেশনা কিংবা ইতিহাসের প্রথম হাফটাইম শো সবকিছুর পরও শেষ বাঁশি বাজলে মনে রাখা হবে একটাই বিষয়: কার হাতে উঠল সোনালি ট্রফি। কারণ কনসার্টের স্মৃতি সময়ের সঙ্গে ফিকে হয়ে যেতে পারে, কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস চিরকাল অমলিন হয়ে থাকে।